সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬
Last updated on December 21st, 2025 at 01:01 pm
পড়তে লাগবে 8 মিনিটসন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয় একটি মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশে উচ্চমানের এবং সাশ্রয়ী শিক্ষার জন্য সরকারি স্কুলগুলো সবসময়ই অভিভাবকদের প্রথম পছন্দ। আপনি যদি আপনার সন্তানকে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের নামকরা কোনো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে চান, তবে সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ সংক্রান্ত সঠিক তথ্য জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো প্রকার ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই ডিজিটাল লটারি পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করে। আজকের এই বিস্তারিত গাইডে আমরা আবেদনের সঠিক নিয়ম, বয়স সীমা এবং লটারি সংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরব যাতে আপনি ঘরে বসেই নির্ভুলভাবে আপনার সন্তানের আবেদন সম্পন্ন করতে পারেন।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও আবেদন ফি
সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করা। সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়াটি সাধারণত বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সময়ের পরে আর কোনোভাবেই আবেদনের সুযোগ থাকে না। তাই গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো মনে রাখা এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুনঃ সাত কলেজ ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬
নিচে সরকারি স্কুল ভর্তির একটি সম্ভাব্য ও নির্ভুল সময়সূচী টেবিল আকারে দেওয়া হলো:
| ইভেন্টের নাম | সম্ভাব্য তারিখ ও সময়সূচী |
| অনলাইন আবেদন শুরু | ১২ নভেম্বর ২০২৫ (সকাল ১০:০০ টা) |
| অনলাইন আবেদন শেষ | ৩০ নভেম্বর ২০২৫ (বিকাল ০৫:০০ টা) |
| আবেদন ফি জমা দেওয়ার শেষ সময় | ৩০ নভেম্বর ২০২৫ (রাত ১১:৫৯ মিনিট) |
| ডিজিটাল লটারি ও ফলাফল প্রকাশ | ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ (সম্ভাব্য) |
| লটারি পরবর্তী মূল ভর্তি কার্যক্রম | ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ |
আবেদন ফি ও প্রদানের নিয়ম:
সরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে সাধারণত ১১০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়। এই ফি শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর ‘টেলিটক’ প্রিপেইড সিমের মাধ্যমে এসএমএস করে জমা দিতে হয়। একজন শিক্ষার্থী একটি আবেদনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫টি স্কুল পছন্দক্রম (Choice List) দিতে পারে। মনে রাখবেন, আবেদন সাবমিট করার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ফি জমা না দিলে আপনার আবেদনটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হবে না। আবেদন শেষে প্রাপ্ত ইউজার আইডি (User ID) ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে এসএমএস পাঠিয়ে ফি পরিশোধ সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ – আবেদন যোগ্যতা
সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী আবেদনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আবশ্যিক শর্ত হলো শিক্ষার্থীর সঠিক বয়স। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ নীতিমালা এবং জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী, প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর বয়স ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ন্যূনতম ৬ বছর পূর্ণ হতে হবে। ডিজিটাল লটারি পদ্ধতিতে বয়স সীমাটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হয়, তাই নির্ধারিত বয়সের একদিন কম বা বেশি হলেও আবেদনটি বাতিল হয়ে যেতে পারে।
বয়স প্রমাণের জন্য শিক্ষার্থীর অনলাইন ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ (Birth Certificate) থাকা বাধ্যতামূলক। হস্তলিখিত বা অফলাইন জন্ম নিবন্ধন দিয়ে এখন আর আবেদন করা সম্ভব নয়। প্রথম শ্রেণির পাশাপাশি অন্যান্য শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রেও বয়সের একটি যৌক্তিক পর্যায় অনুসরণ করা হয়। সাধারণত পূর্ববর্তী শ্রেণির পাসের প্রমাণপত্র (যেমন- পিএসসি বা জেএসসি সমমান পরীক্ষার তথ্য, যদিও বর্তমানে এসব পরীক্ষা নেই, তবুও স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল) আবেদনের সময় প্রয়োজন হতে পারে।
নিচে শ্রেণি ভিত্তিক সম্ভাব্য বয়স সীমার একটি চার্ট দেওয়া হলো:
| শ্রেণি | ন্যূনতম বয়স (১ জানুয়ারি ২০২৬ অনুযায়ী) |
| প্রথম শ্রেণি | ৬+ বছর (বাধ্যতামূলক) |
| দ্বিতীয় শ্রেণি | ৭+ বছর |
| তৃতীয় শ্রেণি | ৮+ বছর |
| চতুর্থ শ্রেণি | ৯+ বছর |
| পঞ্চম শ্রেণি | ১০+ বছর |
| ষষ্ঠ শ্রেণি | ১১+ বছর |
ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া
সরকারি স্কুলে ভর্তির জন্য এখন আর স্কুলে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্ম সংগ্রহ করার প্রয়োজন নেই। সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। অভিভাবকরা ঘরে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করে আবেদন করতে পারবেন:
১. ওয়েবসাইট ভিজিট: প্রথমে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট gsa.teletalk.com.bd এ প্রবেশ করতে হবে।
২. আবেদনের ধরণ নির্বাচন: এখানে ‘Government School’ অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীর তথ্য প্রদান: শিক্ষার্থীর নাম (জন্ম নিবন্ধন অনুযায়ী), ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন নম্বর, লিঙ্গ এবং পিতা-মাতার নাম নির্ভুলভাবে ইংরেজিতে পূরণ করতে হবে।
৪. ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর: স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানার পাশাপাশি অভিভাবকের একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। মনে রাখবেন, এই নম্বরেই লটারির ফলাফল এবং পরবর্তী সকল নির্দেশনা পাঠানো হবে।
৫. স্কুল চয়েস (School Choice): একজন শিক্ষার্থী একই থানায় অবস্থিত সর্বোচ্চ ৫টি স্কুল পছন্দক্রম অনুযায়ী নির্বাচন করতে পারবে। যদি কোনো শিক্ষার্থী ডাবল শিফট রয়েছে এমন স্কুল নির্বাচন করে, তবে তার একটি চয়েস হিসেবেই গণ্য হবে।
৬. ছবি আপলোড: শিক্ষার্থীর একটি রঙিন পাসপোর্ট সাইজের ছবি (৩০০x৩০০ পিক্সেল এবং ১০০ কেবির নিচে) আপলোড করতে হবে।
৭. আবেদন সাবমিট: সকল তথ্য পুনরায় যাচাই করে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। সফলভাবে সাবমিট হলে একটি ‘Applicant Copy’ পাওয়া যাবে যেখানে একটি ‘User ID’ থাকবে।
মনে রাখুন: আবেদন সাবমিট করার পর প্রাপ্ত ইউজার আইডি ব্যবহার করে অবশ্যই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেলিটক সিমের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি জমা না দেওয়া পর্যন্ত আবেদনটি অসম্পূর্ণ বলে বিবেচিত হবে। আবেদন করার সময় কোনো ভুল হলে ফি জমা দেওয়ার আগে পুনরায় নতুন করে আবেদন করার সুযোগ থাকে।
সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ – প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ছবি
সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী আবেদন করার আগে সঠিক কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনলাইন ভিত্তিক, তাই নথিপত্রের সামান্য ত্রুটির কারণে আপনার সন্তানের ভর্তি প্রক্রিয়াটি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আবেদনের সময় আপনার হাতের কাছে যে বিষয়গুলো রাখা আবশ্যিক তা নিচে দেওয়া হলো:
- ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ: শিক্ষার্থীর অবশ্যই ১৭ ডিজিটের অনলাইন ভেরিফাইড জন্ম নিবন্ধন থাকতে হবে। আবেদনের ফরমে জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি ইনপুট দেওয়ার সাথে সাথে ডাটাবেস থেকে তথ্য যাচাই করা হয়। তাই হস্তলিখিত কোনো সনদ দিয়ে আবেদন করা সম্ভব নয়।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি: আবেদনকারীর এক কপি স্পষ্ট রঙিন ছবি প্রয়োজন। ছবির মাপ হতে হবে ৩০০×৩০০ পিক্সেল এবং ফাইল সাইজ ১০০ কেবির মধ্যে। ছবির ব্যাকগ্রাউন্ড এক রঙের (সাদা বা হালকা নীল) হওয়া বাঞ্ছনীয়।
- পিতা ও মাতার এনআইডি (NID): ফরমে পিতা ও মাতার নাম এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর নির্ভুলভাবে দিতে হবে। এক্ষেত্রে এনআইডি কার্ড অনুযায়ী বানানগুলো পুনরায় চেক করে নিন।
- সচল মোবাইল নম্বর: আবেদনের সময় অভিভাবকের একটি সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে। এই নম্বরেই টেলিটক থেকে ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ডসহ লটারির ফলাফল পাঠানো হবে।
- কোটার প্রমাণপত্র: আপনি যদি বিশেষ কোনো কোটার অধীনে আবেদন করতে চান, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া ডিজিটাল সনদপত্রের স্ক্যান কপি বা তথ্য সাথে রাখুন।
চেকলিস্ট:
- ১৭ ডিজিটের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন নম্বর।
- ৩০০×৩০০ পিক্সেল সাইজের রঙিন ছবি।
- সচল মোবাইল নম্বর (টেলিটক সিম থাকলে ভালো, তবে যেকোনো অপারেটর চলবে)।
- সঠিক স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা।
সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ – কোটা ও লটারি প্রক্রিয়া
সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে সরকার একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা মেনে আসন বন্টন করে থাকে। সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী ডিজিটাল লটারি পদ্ধতির মাধ্যমেই সকল কোটা এবং সাধারণ আসনের শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। এই পদ্ধতিতে কোনো প্রকার মানবিক হস্তক্ষেপ বা দুর্নীতির সুযোগ থাকে না, ফলে সাধারণ মানুষ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সন্তানদের ভর্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।
বর্তমানে সরকারি স্কুলে যে কোটাগুলো বিদ্যমান রয়েছে:
১. এলাকা কোটা (Catchment Area): প্রতিটি স্কুলের মোট আসনের ৫০ শতাংশ ওই স্কুলের ক্যাচমেন্ট এরিয়া বা সংলগ্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকে। একে ‘এলাকা কোটা’ বলা হয়।
২. মুক্তিযোদ্ধা কোটা: বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিদের জন্য ৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ থাকে।
৩. প্রতিবন্ধী কোটা: বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকে।
৪. শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পোষ্য কোটা: সরকারি স্কুলের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য নির্দিষ্ট শতাংশ আসন বরাদ্দ রাখা হয়।
ডিজিটাল লটারি কীভাবে কাজ করে?
আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) একটি নির্ধারিত দিনে কেন্দ্রীয়ভাবে লটারি অনুষ্ঠান পরিচালনা করে। বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে এই দৈবচয়ন (Random Selection) প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। লটারির সময় প্রতিটি স্কুলের প্রতিটি শ্রেণির জন্য আলাদা আলাদা মেধা তালিকা এবং একটি অপেক্ষমাণ তালিকা (Waiting List) প্রস্তুত করা হয়। ফলাফল প্রকাশের সাথে সাথে অভিভাবকরা অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অথবা এসএমএস-এর মাধ্যমে জানতে পারেন তাদের সন্তান কোন স্কুলে নির্বাচিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ২০২৫-২০২৬
লটারির রেজাল্ট দেখার নিয়ম
ডিজিটাল লটারি সম্পন্ন হওয়ার পর ফলাফল জানার জন্য অভিভাবকদের মধ্যে বেশ উত্তেজনা কাজ করে। সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী, লটারির ফলাফল সাধারণত দুটি মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। প্রথমত, আপনি আপনার আবেদনের সময় দেওয়া সচল মোবাইল নম্বরে টেলিটক থেকে একটি ফিরতি এসএমএস পাবেন। দ্বিতীয়ত, আপনি সরাসরি gsa.teletalk.com.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে শিক্ষার্থীর ইউজার আইডি দিয়ে রেজাল্ট চেক করতে পারবেন।
তবে মনে রাখবেন, লটারিতে নাম আসাই শেষ কথা নয়; চূড়ান্ত ভর্তির জন্য আপনাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচিত স্কুলে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ আপনার দেওয়া সকল তথ্য ও মূল কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করবেন। যদি অনলাইন আবেদনের তথ্যের সাথে মূল কাগজের কোনো অমিল পাওয়া যায়, তবে ভর্তি বাতিল হতে পারে।
ভর্তির সময় যা যা সাথে রাখতে হবে:
- অনলাইনে ডাউনলোড করা লটারির ফলাফলের কপি।
- শিক্ষার্থীর মূল অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ ও ফটোকপি।
- পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) ফটোকপি।
- পূর্ববর্তী স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল বা প্রত্যয়নপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
- কোটার স্বপক্ষে মূল সনদপত্র (যেমন- মুক্তিযোদ্ধা সনদ বা এলাকা কোটার প্রমাণ)।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, আপনার সন্তানের মানসম্মত শিক্ষার পথে সরকারি স্কুল হতে পারে একটি বিশাল মাইলফলক। সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ এর এই পুরো প্রক্রিয়াটি এখন অনেক বেশি আধুনিক ও স্বচ্ছ, তাই লবিং বা অনৈতিক উপায়ে ভর্তির কোনো সুযোগ নেই। সঠিক সময়ে নির্ভুলভাবে আবেদন করা এবং লটারির ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করাই হলো একজন সচেতন অভিভাবকের প্রধান কাজ। আশা করি, আমাদের এই বিস্তারিত নির্দেশিকাটি আপনাকে সন্তানের ভর্তির পুরো প্রক্রিয়াটি বুঝতে সাহায্য করেছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: সরকারি স্কুলে কি এবারও ভর্তি পরীক্ষা হবে?
উত্তর: না, সরকারি স্কুলে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী কোনো ভর্তি পরীক্ষা হবে না। ডিজিটাল লটারির মাধ্যমেই শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।
প্রশ্ন ২: জন্ম নিবন্ধন কি হাতে লেখা হলে চলবে?
উত্তর: একদমই না। অবশ্যই ১৭ ডিজিটের অনলাইন ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন থাকতে হবে, যা পোর্টালে যাচাই করা হবে।
প্রশ্ন ৩: একজন শিক্ষার্থী কয়টি স্কুলে আবেদন করতে পারবে?
উত্তর: একজন শিক্ষার্থী একটি আবেদনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৫টি স্কুলে পছন্দক্রম দিতে পারবে।
প্রশ্ন ৪: লটারিতে নাম না আসলে কি কোনো সুযোগ আছে?
উত্তর: লটারির মূল তালিকার পাশাপাশি একটি অপেক্ষমাণ তালিকা (Waiting List) প্রকাশ করা হয়। মূল তালিকা থেকে কেউ ভর্তি না হলে সেই শূন্য আসনে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ডাকা হয়।
প্রশ্ন ৫: আবেদন ফি কত এবং কীভাবে দেব?
উত্তর: আবেদন ফি সাধারণত ১১০ টাকা এবং এটি শুধুমাত্র টেলিটক প্রিপেইড সিমের মাধ্যমে এসএমএস পাঠিয়ে জমা দিতে হয়।
আপনার সন্তানের শিক্ষা জীবন আনন্দময় ও সফল হোক এই শুভকামনা রইল!






