জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬

জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬
পড়তে লাগবে 8 মিনিট

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় সমন্বিত গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতি একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তনের নাম। এক সময় শিক্ষার্থীদের দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আলাদা ভর্তি পরীক্ষা দিতে হতো, যা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং ব্যয়বহুল। কিন্তু এখন একটি মাত্র পরীক্ষার মাধ্যমেই ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে। আপনি যদি ২০২৫ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ একজন স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী হন, তবে জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬ আপনার স্বপ্নের ঠিকানায় পৌঁছানোর সবচেয়ে বড় মাধ্যম।

GK নিয়ে সমস্যা? এখনই সংগ্রহ করে নাও বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক ও সাম্প্রতিক সংবলিত ৮০০+ MCQ এর মেগা পিডিএফ! নিতে এখনই নক করো [শুধু মাত্র প্রথম ৩০০ জনকে সরবরাহ করা হবে!!!]

২০২৫-২০২৬ সেশনের ভর্তিচ্ছুদের জন্য এই গুচ্ছ পদ্ধতি একদিকে যেমন সুযোগের দুয়ার খুলে দিয়েছে, অন্যদিকে প্রস্তুতির কৌশলে এনেছে নতুন মাত্রা। এই সমন্বিত পরীক্ষার মাধ্যমে সময় ও অর্থের সাশ্রয় নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি মেধা যাচাইয়ের একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আজকের এই বিস্তারিত গাইডে আমরা আলোচনা করব কীভাবে আপনি এই ভর্তি যুদ্ধের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করবেন এবং জিএসটি গুচ্ছের সর্বশেষ আপডেটগুলো কী কী।

গুচ্ছভুক্ত ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা

জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬ এর অধীনে দেশের স্বনামধন্য ২৪টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। এই গুচ্ছ পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো, আপনার মেধা স্কোর অনুযায়ী আপনি এই ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে আপনার পছন্দের বিভাগে পড়ার সুযোগ পেতে পারেন।

আরও পড়ুনঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ২০২৫-২০২৬

নিচে গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো:

ক্রমিকবিশ্ববিদ্যালয়ের নামঅবস্থান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি)ঢাকা
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)সিলেট
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি)খুলনা
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)কুষ্টিয়া
হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়দিনাজপুর
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টাঙ্গাইল
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়নোয়াখালী
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি)কুমিল্লা
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ময়মনসিংহ
১০যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়যশোর
১১বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়রংপুর
১২পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়পাবনা
১৩বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গোপালগঞ্জ
১৪বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়বরিশাল
১৫রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়রাঙামাটি
১৬রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশসিরাজগঞ্জ
১৭বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটিগাজীপুর
১৮শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয়নেত্রকোনা
১৯বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বি.বি.জামালপুর
২০পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়পটুয়াখালী
২১কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কিশোরগঞ্জ
২২চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়চাঁদপুর
২৩সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সুনামগঞ্জ
২৪বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বি.বি.পিরোজপুর

এই ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটিতেই রয়েছে আলাদা আলাদা অনুষদ ও অসংখ্য আকর্ষণীয় বিভাগ। আপনি যে প্রান্তেই থাকুন না কেন, এই সমন্বিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে আপনিও হয়ে উঠতে পারেন এই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর যেকোনো একটির গর্বিত শিক্ষার্থী।

জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬ – আবেদন যোগ্যতা

জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬-এ অংশগ্রহণ করতে হলে আপনাকে প্রথমেই নির্দিষ্ট কিছু শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে হবে। এই সমন্বিত পদ্ধতিতে যেহেতু ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত, তাই যোগ্যতার মানদণ্ডটি এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে সব মেধার শিক্ষার্থীই আবেদনের সুযোগ পায়। আপনি বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হন বা মানবিক কিংবা ব্যবসায় শিক্ষার আপনার জন্য আলাদা আলাদা জিপিএ (GPA) শর্ত প্রযোজ্য হবে।

  • পাসের সাল: আবেদনকারীকে অবশ্যই ২০২২ বা ২০২৩ সালে এসএসসি (বা সমমান) এবং ২০২৪ বা ২০২৫ সালে এইচএসসি (বা সমমান) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এর মানে হলো, যারা গত বছর সুযোগ পাননি, তাদের জন্য ‘সেকেন্ড টাইম’ (Second Time) পরীক্ষা দেওয়ার দারুণ একটি সুযোগ থাকছে।
  • বিজ্ঞান ইউনিট (A Unit): এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে এবং মোট জিপিএ কমপক্ষে ৮.০০ হতে হবে।
  • মানবিক ইউনিট (B Unit): এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে এবং মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.০০ হতে হবে।
  • ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট (C Unit): এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে এবং মোট জিপিএ কমপক্ষে ৬.৫০ হতে হবে।

যোগ্যতা যাচাইয়ের দ্রুত চেকলিস্ট:

  • এইচএসসি ২০২৪ বা ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
  • বিজ্ঞান বিভাগ: মোট জিপিএ ৮.০০ (ন্যূনতম ৩.৫০ প্রতিটি)।
  • মানবিক বিভাগ: মোট জিপিএ ৬.০০ (ন্যূনতম ৩.০০ প্রতিটি)।
  • ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: মোট জিপিএ ৬.৫০ (ন্যূনতম ৩.০০ প্রতিটি)।
  • ডিপ্লোমা বা মাদ্রাসা বোর্ডভুক্ত শিক্ষার্থীরাও সমমান যোগ্যতা সাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন।

আরও পড়ুনঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ২০২৫-২০২৬

জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬ – গুরুত্বপূর্ণ তারিখ

ভর্তি যুদ্ধে জয়ী হতে হলে আপনাকে সময়ের ব্যাপারে অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে। জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬-এর আবেদন প্রক্রিয়া সাধারণত বছরের শেষ দিকে শুরু হয় এবং কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলে। নির্ধারিত সময়ের পরে আবেদনের কোনো সুযোগ থাকে না, তাই তারিখগুলো ডায়েরিতে নোট করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।

নিচে সম্ভাব্য ও লেটেস্ট আপডেট অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার একটি সময়সূচী দেওয়া হলো:

ইভেন্টের নামসম্ভাব্য তারিখ / সময়সূচী
অনলাইন আবেদন শুরু১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে
অনলাইন আবেদন শেষজানুয়ারি ২০২৬ এর প্রথম সপ্তাহ
প্রবেশপত্র ডাউনলোডমার্চ ২০২৬ এর মাঝামাঝি
সি-ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা) পরীক্ষাএপ্রিল ২০২৬ এর প্রথম সপ্তাহ
বি-ইউনিট (মানবিক) পরীক্ষাএপ্রিল ২০২৬ এর দ্বিতীয় সপ্তাহ
এ-ইউনিট (বিজ্ঞান) পরীক্ষাএপ্রিল ২০২৬ এর শেষ সপ্তাহ

আবেদন ফি ও পেমেন্ট পদ্ধতি:

জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন ফি সাধারণত ১,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে স্থাপত্য (Architecture) বা ব্যবহারিক বিষয়ের জন্য অতিরিক্ত ফি প্রদান করতে হতে পারে। এই ফি আপনি খুব সহজেই আপনার হাতের কাছে থাকা বিকাশ, রকেট বা নগদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘরে বসেই পরিশোধ করতে পারবেন। ফি প্রদানের পর অবশ্যই আপনার পেমেন্ট কনফার্মেশন স্লিপটি ডাউনলোড করে রাখবেন, যা পরবর্তীতে অনেক কাজে দেবে। মনে রাখবেন, ফি জমা দেওয়া ছাড়া আপনার আবেদনটি চূড়ান্তভাবে গৃহীত হবে না।

মানবন্টন ও বিষয়ভিত্তিক সিলেবাস

ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের জন্য পরীক্ষার মানবন্টন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা অর্ধাংশ যুদ্ধের সমান। জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬ সম্পূর্ণ এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের ওপর অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর পাওয়া যাবে, তবে ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাৎ, চারটি ভুল উত্তরের জন্য আপনার প্রাপ্ত নম্বর থেকে ১ নম্বর বিয়োগ হবে, যা মেধা তালিকায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নিচে প্রতিটি ইউনিটের বিস্তারিত নম্বর বিভাজন দেওয়া হলো:

ইউনিটবিষয়সমূহনম্বর বিভাজনমোট নম্বর
এ (বিজ্ঞান)পদার্থবিজ্ঞান (২০), রসায়ন (২০), গণিত/জীববিজ্ঞান/বাংলা/ইংরেজি২০+২০+৪০ (ঐচ্ছিকসহ)১০০
বি (মানবিক)বাংলা (৩৫), ইংরেজি (৩৫), সাধারণ জ্ঞান (৩০)৩৫+৩৫+৩০১০০
সি (ব্যবসায় শিক্ষা)হিসাববিজ্ঞান (২৫), ব্যবসায় সংগঠন (২৫), আইসিটি (২৫), বাংলা (১৩), ইংরেজি (১২)২৫+২৫+২৫+১৩+১২১০০

পরীক্ষা পদ্ধতির গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক:

  • সময়: ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য মাত্র ৬০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকে। তাই দ্রুত ও নির্ভুলভাবে উত্তর করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
  • সিলেবাস: সাধারণত এইচএসসি-র সংক্ষিপ্ত সিলেবাস (Short Syllabus) অনুসরণ করা হয়, তবে কিছু মৌলিক প্রশ্ন মূল সিলেবাস থেকেও আসতে পারে।
  • ক্যালকুলেটর: গুচ্ছ পরীক্ষায় সাধারণত কোনো ধরনের ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি থাকে না।

আরও পড়ুনঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫

ধাজিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬ – আবেদন প্রক্রিয়া

জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬-এর আবেদন প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও আধুনিক। আপনাকে কোথাও সশরীরে না গিয়ে বাড়িতে বসেই ইন্টারনেটের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের সময় কোনো তথ্য ভুল হলে পরবর্তীতে তা সংশোধন করা অনেক সময় অসম্ভব হয়ে পড়ে, তাই নিচের ধাপগুলো খুব সাবধানে অনুসরণ করুন:

১. রেজিস্ট্রেশন: প্রথমেই গুচ্ছ ভর্তির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট gstadmission.ac.bd-এ যান। আপনার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পাসের সাল দিয়ে ‘Start Application’ বাটনে ক্লিক করুন।

২. মোবাইল নম্বর যাচাই: আপনার সচল একটি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর দিন। একটি ওটিপি (OTP) কোড আসবে, যা দিয়ে নম্বরটি ভেরিফাই করতে হবে। এই নম্বরটিই পুরো ভর্তি প্রক্রিয়ায় আপনার সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হবে।

৩. ছবি আপলোড: শিক্ষার্থীর একটি সাম্প্রতিক তোলা রঙিন ছবি আপলোড করুন। ছবির মাপ হতে হবে ৩০০×৩০০ পিক্সেল এবং ফাইল সাইজ ১০০ কেবির মধ্যে।

৪. পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন: আপনি কোন কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক তা সাবধানে নির্বাচন করুন। সাধারণত নিজের জেলা বা নিকটস্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্র নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. ফি প্রদান: সবশেষে নির্ধারিত আবেদন ফি (বিকাশ, রকেট বা নগদ) দিয়ে আবেদনটি চূড়ান্ত করুন। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে ‘Acknowledgement Slip’ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন।

মেধা তালিকা প্রণয়ন ও বিভাগ নির্বাচন

ভর্তি পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরেই শুরু হয় সবচেয়ে স্নায়ুচাপের মুহূর্ত ফলাফল এবং মেধা তালিকা প্রকাশ। জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬-এর চূড়ান্ত মেধা তালিকা শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয় না। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব নীতিমালার আলোকে ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের সাথে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার জিপিএ-র ওপর একটি নির্দিষ্ট স্কোর (সাধারণত ১০ থেকে ২০ নম্বর) যোগ করে চূড়ান্ত মেধা তালিকা বা মেরিট লিস্ট তৈরি করে।

ফলাফল প্রকাশের পর জিএসটিভুক্ত প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে আলাদা করে আবেদনের সুযোগ দেবে। সেখানে আপনার প্রাপ্ত স্কোর এবং মেধা অবস্থান অনুযায়ী পছন্দের বিষয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা (Subject Choice List) জমা দিতে হবে। আপনার স্কোর যত বেশি হবে, প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় যেমন শাবিপ্রবি বা জবি-তে পছন্দের বিষয় পাওয়ার সম্ভাবনা ততটাই উজ্জ্বল হবে।

মনে রাখুন: মেধা তালিকায় ভালো অবস্থানে থাকলেও কিছু বিশেষ বিভাগে ভর্তির জন্য আলাদা শর্ত থাকতে পারে। যেমন ইংরেজি বিভাগে ভর্তির জন্য ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজিতে নির্দিষ্ট নম্বর পাওয়া আবশ্যিক হতে পারে। তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোস্পেক্টাসটি ভালো করে পড়ে নিন।

আরও পড়ুনঃ জশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ২০২৫-২০২৬

উপসংহার

পরিশেষে বলা যায়, জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে একটি বিশাল মাইলফলক। এক সময় যে স্বপ্ন পূরণ করতে শিক্ষার্থীদের দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়াতে হতো, এখন তা একটি মাত্র পরীক্ষার মাধ্যমেই সম্ভব হচ্ছে। উচ্চশিক্ষার এই দীর্ঘ এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ যাত্রায় সফল হতে হলে আপনাকে কৌশলগত পড়াশোনার পাশাপাশি ধৈর্য বজায় রাখতে হবে। সঠিক প্রস্তুতি আর আত্মবিশ্বাস থাকলে আপনিও ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে নিজের জন্য একটি আসন নিশ্চিত করতে পারবেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রশ্ন ১: জিএসটি গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায়?

উত্তর: না, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণত কোনো ধরনের ক্যালকুলেটর বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি থাকে না।

প্রশ্ন ২: গুচ্ছ পরীক্ষায় নূন্যতম পাস নম্বর কত?

উত্তর: সাধারণত ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৩০ নম্বরকে পাস নম্বর হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে মেধা তালিকায় ভালো অবস্থানে থাকতে আরও বেশি নম্বর প্রয়োজন।

প্রশ্ন ৩: কতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি হওয়া যাবে?

উত্তর: জিএসটি গুচ্ছ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫-২০২৬-এর অধীনে দেশের ২৪টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

প্রশ্ন ৪: নেগেটিভ মার্কিং কত?

উত্তর: প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাৎ চারটি ভুল উত্তরের জন্য ১ নম্বর বিয়োগ হবে।

প্রশ্ন ৫: সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা দেওয়া কি সম্ভব?

উত্তর: হ্যাঁ, অধিকাংশ গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সেকেন্ড টাইম বা দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ প্রদান করে।

ভর্তি যুদ্ধের এই কঠিন সময়ে আপনার পরিশ্রম সার্থক হোক এবং আপনি আপনার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পান এই শুভকামনা রইল।

আরও পড়ুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *