গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬

বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত এবং বড় প্ল্যাটফর্ম হলো সমন্বিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা। এক সময় শিক্ষার্থীদের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আলাদা আলাদা আবেদন করতে হতো এবং দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়াতে হতো। কিন্তু এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। আপনি যদি ২০২৫ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ একজন স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থী হন এবং আপনার লক্ষ্য যদি হয় দেশের স্বনামধন্য কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের আসন নিশ্চিত করা, তবে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ সুযোগ।
GK নিয়ে সমস্যা? এখনই সংগ্রহ করে নাও বাংলাদেশ, আন্তর্জাতিক ও সাম্প্রতিক সংবলিত ৮০০+ MCQ এর মেগা পিডিএফ! নিতে এখনই নক করো [শুধু মাত্র প্রথম ৩০০ জনকে সরবরাহ করা হবে!!!]
২৪টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে আয়োজিত এই ভর্তি পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সময়, অর্থ এবং পরিশ্রম সবই বাঁচিয়ে দিয়েছে। ২০২৫-২০২৬ সেশনের ভর্তিচ্ছুদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন কবে নাগাদ আসবে সার্কুলার? আবেদনের যোগ্যতা কী বা প্রস্তুতির ধরণ কেমন হওয়া উচিত? আপনার সেই সকল কৌতূহল মেটাতে এবং প্রস্তুতির পথকে মসৃণ করতেই আজকের এই পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ সংক্রান্ত সকল লেটেস্ট আপডেট।
গুচ্ছভুক্ত ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় রয়েছে দেশের সেরা কিছু সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই গুচ্ছের মূল আকর্ষণ। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে আলাদা পরিবেশ এবং ক্যারিয়ারমুখী অসংখ্য বিভাগ।
আরও পড়ুনঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ২০২৫-২০২৬
নিচে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও অবস্থান একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ক্রম | বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম | অবস্থান |
| ১ | জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) | সদরঘাট, ঢাকা |
| ২ | শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) | সিলেট |
| ৩ | খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) | খুলনা |
| ৪ | ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) | কুষ্টিয়া |
| ৫ | হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | দিনাজপুর |
| ৬ | মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | টাঙ্গাইল |
| ৭ | নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | নোয়াখালী |
| ৮ | কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) | কুমিল্লা |
| ৯ | জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় | ত্রিশাল, ময়মনসিংহ |
| ১০ | যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | যশোর |
| ১১ | বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় | রংপুর |
| ১২ | পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | পাবনা |
| ১৩ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | গোপালগঞ্জ |
| ১৪ | বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় | বরিশাল |
| ১৫ | রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | রাঙামাটি |
| ১৬ | রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ | শাহজাদপুর, সিরাজগঞ্জ |
| ১৭ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি | গাজীপুর |
| ১৮ | শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় | নেত্রকোনা |
| ১৯ | বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বি.বি. | জামালপুর |
| ২০ | পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | পটুয়াখালী |
| ২১ | কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | কিশোরগঞ্জ |
| ২২ | চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | চাঁদপুর |
| ২৩ | সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | সুনামগঞ্জ |
| ২৪ | বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বি.বি. | পিরোজপুর |
এই তালিকায় থাকা প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পৃথক আসন বিন্যাস ও বিভাগ রয়েছে। গুচ্ছ পরীক্ষায় আপনার অর্জিত মেধা স্কোর এবং পরবর্তীতে আপনার পছন্দক্রমের ওপর ভিত্তি করেই এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর যেকোনো একটিতে আপনার ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত হবে।
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ – আবেদন যোগ্যতা
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে আপনাকে প্রথমেই নির্ধারিত কিছু শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি পূরণ করতে হবে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী, তিন বিভাগের (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা জিপিএ (GPA) শর্ত দেওয়া হয়েছে। যেহেতু এখানে ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয় একসাথে যুক্ত, তাই যোগ্যতার বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হয়।
- পাসের সাল: আবেদনকারীকে অবশ্যই ২০২২ বা ২০২৩ সালে এসএসসি (বা সমমান) এবং ২০২৪ বা ২০২৫ সালে এইচএসসি (বা সমমান) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। অর্থাৎ, যারা গত বছর সুযোগ পাননি, তারা এবারও ‘সেকেন্ড টাইম’ (Second Time) পরীক্ষা দেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পাচ্ছেন।
- বিজ্ঞান ইউনিট (A Unit): এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে এবং সর্বমোট জিপিএ ৮.০০ হতে হবে।
- মানবিক ইউনিট (B Unit): এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে এবং সর্বমোট জিপিএ ৬.০০ হতে হবে।
- ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিট (C Unit): এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ থাকতে হবে এবং সর্বমোট জিপিএ ৬.৫০ হতে হবে।
যোগ্যতা যাচাইয়ের দ্রুত চেকলিস্ট:
- এইচএসসি ২০২৪ বা ২০২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
- বিজ্ঞান বিভাগ: মোট জিপিএ ৮.০০ (চতুর্থ বিষয়সহ)।
- মানবিক বিভাগ: মোট জিপিএ ৬.০০ (চতুর্থ বিষয়সহ)।
- ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ: মোট জিপিএ ৬.৫০ (চতুর্থ বিষয়সহ)।
- কারিগরি বা মাদ্রাসা বোর্ডভুক্ত শিক্ষার্থীরাও সমমান যোগ্যতা সাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ২০২৫-২০২৬
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ – গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি নজর থাকে আবেদনের সময়সূচী ও পেমেন্ট পদ্ধতির দিকে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। সঠিক সময়ে আবেদন না করলে এবং ফি জমা না দিলে আপনার প্রস্তুতি বৃথা যেতে পারে। নিচের টেবিল থেকে সম্ভাব্য সময়রেখাটি দেখে নিন:
| ইভেন্ট | সম্ভাব্য তারিখ / সময়সূচী |
| অনলাইন আবেদন শুরু | ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে |
| অনলাইন আবেদন শেষ | ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে |
| প্রবেশপত্র ডাউনলোড শুরু | মার্চ ২০২৬ এর প্রথম সপ্তাহ |
| সি-ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা) পরীক্ষা | মার্চ ২০২৬ এর শেষ সপ্তাহ |
| বি-ইউনিট (মানবিক) পরীক্ষা | এপ্রিল ২০২৬ এর প্রথম সপ্তাহ |
| এ-ইউনিট (বিজ্ঞান) পরীক্ষা | এপ্রিল ২০২৬ এর দ্বিতীয় সপ্তাহ |
আবেদন ফি ও পেমেন্ট পদ্ধতি:
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার জন্য এবার আবেদন ফি ধরা হয়েছে ১,৫০০ টাকা (সম্ভাব্য)। তবে আপনি যদি স্থাপত্য (Architecture) বিভাগে আবেদন করতে চান, তবে ড্রয়িং পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত ৫০০ টাকা ফি প্রদান করতে হতে পারে। এই ফি আপনি ঘরে বসেই বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং পরিষেবার মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন। ফি জমা দেওয়ার পর অবশ্যই ট্রানজেকশন আইডি (Transaction ID) এবং পেমেন্ট স্লিপটি ডাউনলোড করে রাখবেন, যা পরবর্তীতে অনেক কাজে দেবে। মনে রাখবেন, ফি জমা দেওয়ার পর আবেদনটি চূড়ান্ত হয়েছে কি না তা ড্যাশবোর্ড থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
মানবন্টন ও পরীক্ষা পদ্ধতি
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সফল হওয়ার প্রধান শর্ত হলো এর মানবন্টন ও পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ অনুযায়ী, পরীক্ষাটি সম্পূর্ণ এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরের ওপর অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর বরাদ্দ থাকলেও ভুল উত্তরের জন্য রয়েছে ‘নেগেটিভ মার্কিং’। তাই পরীক্ষার হলে আন্দাজে উত্তর করার প্রবণতা আপনার স্বপ্ন ভঙ্গের কারণ হতে পারে।
নিচে তিন ইউনিটের বিস্তারিত নম্বর বিভাজন দেওয়া হলো:
এ-ইউনিট (বিজ্ঞান):
বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়ন আবশ্যিক। তবে চতুর্থ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে গণিত, জীববিজ্ঞান, বাংলা বা ইংরেজির মধ্যে অপশন বেছে নেওয়া যায়।
- পদার্থবিজ্ঞান: ২০
- রসায়ন: ২০
- জীববিজ্ঞান: ২০
- গণিত: ২০
- বাংলা: ১০
- ইংরেজি: ১০(বিঃদ্রঃ: কিছু ক্ষেত্রে ঐচ্ছিক বিষয়ের পরিবর্তে বাংলা/ইংরেজি উত্তর করার সুযোগ থাকে)
বি-ইউনিট (মানবিক):
- বাংলা: ৩৫
- ইংরেজি: ৩৫
- সাধারণ জ্ঞান: ৩০
সি-ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা):
- হিসাববিজ্ঞান: ২৫
- ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা: ২৫
- বাংলা: ১৩
- ইংরেজি: ১২
- আইসিটি: ২৫
পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নিয়মসমূহ:
১. সময়: ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আপনি সময় পাবেন মাত্র ১ ঘণ্টা।
২. নেগেটিভ মার্কিং: প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। অর্থাৎ ৪টি ভুল উত্তরের জন্য ১ নম্বর বিয়োগ হবে।
৩. পাস নম্বর: সাধারণত মেধা তালিকায় স্থান পেতে ন্যূনতম ৩০ নম্বর পেতে হয়। তবে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের সাবজেক্ট পেতে হলে আপনাকে অবশ্যই ৬০-৭০ এর উপরে নম্বর টার্গেট করতে হবে।
আরও পড়ুনঃ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা ২০২৫
ধাপে ধাপে আবেদন করার নিয়ম
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ প্রকাশের পর আপনাকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল হলে পরবর্তীতে তা সংশোধন করা বেশ জটিল হতে পারে। তাই নিচে দেওয়া ধাপগুলো মনোযোগ দিয়ে অনুসরণ করুন:
১. ওয়েবসাইট ভিজিট: প্রথমে গুচ্ছ ভর্তির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট gstadmission.ac.bd-এ প্রবেশ করুন।
২. প্রাথমিক তথ্য প্রদান: আপনার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রোল, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং পাসের সাল দিয়ে ‘Start Application’ বাটনে ক্লিক করুন।
৩. মোবাইল নম্বর ভেরিফিকেশন: আপনার সচল একটি মোবাইল নম্বর দিন এবং প্রাপ্ত ওটিপি (OTP) দিয়ে ভেরিফাই করুন। এই নম্বরটি পুরো ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সচল রাখতে হবে।
৪. ছবি ও তথ্য আপলোড: সাম্প্রতিক তোলা রঙিন ছবি (৩০০×৩০০ পিক্সেল) আপলোড করুন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো পুনরায় চেক করে নিন।
৫. ইউনিট ও কেন্দ্র নির্বাচন: আপনি যে ইউনিটে পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক তা নির্বাচন করুন এবং আপনার সুবিধামতো পরীক্ষার কেন্দ্র বাছাই করুন।
৬. ফি প্রদান: সবশেষে নির্ধারিত আবেদন ফি (বিকাশ, রকেট বা নগদ) দিয়ে আবেদনটি কনফার্ম করুন।
টিপস:
- ছবি আপলোড করার সময় ব্যাকগ্রাউন্ড হালকা রঙের রাখা ভালো।
- পেমেন্ট করার পর অবশ্যই ‘অ্যাপ্লিকেশন স্লিপ’ ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে রাখুন।
- আবেদন করার সময় তাড়াহুড়ো না করে প্রতিটি তথ্য দুইবার মিলিয়ে নিন, বিশেষ করে আপনার মোবাইল নম্বর ও কেন্দ্র নির্বাচন।
আরও পড়ুনঃ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ২০২৫-২০২৬
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ – প্রস্তুতি কৌশল
গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ প্রকাশের পর হাতে খুব বেশি সময় থাকে না। যেহেতু ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগিতা এখানে হয়, তাই আপনার প্রস্তুতি হতে হবে অন্যদের চেয়ে আলাদা এবং গোছানো। গুচ্ছ পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেতে হলে মূল বই (Textbooks) আয়ত্তে রাখার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে এনসিটিবি অনুমোদিত বইগুলো লাইন টু লাইন পড়া থাকলে এমসিকিউ সমাধান করা অনেক সহজ হয়ে যায়।
সফলতার ৩টি মূলমন্ত্র:
১. প্রশ্ন ব্যাংক সমাধান: বিগত ৩-৪ বছরের গুচ্ছ পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বারবার সমাধান করুন। এতে প্রশ্নের ধরণ এবং সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।
২. দুর্বলতায় গুরুত্ব: আপনার যে বিষয়ে ভীতি আছে (যেমন- গণিত বা ইংরেজি), সেগুলোতে এখন থেকেই বাড়তি সময় দিন। প্রতিদিন অন্তত ২-৩ ঘণ্টা সেই বিষয়টি চর্চা করুন।
৩. মডেল টেস্ট: পরীক্ষার আগে নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ মডেল টেস্ট দিন। ১ ঘণ্টার মধ্যে ১০০টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার অভ্যাস আপনাকে মূল পরীক্ষায় আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
উপসংহার
পরিশেষে বলা যায়, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা সার্কুলার ২০২৫-২০২৬ শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের মানসম্মত উচ্চশিক্ষার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এই পদ্ধতিতে নিজের মেধা প্রমাণের মাধ্যমে আপনি যেমন আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাবেন, তেমনি একটি সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। হতাশ না হয়ে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আজ থেকেই পড়াশোনা শুরু করুন। আপনার পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনাই আপনাকে পৌঁছে দেবে সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে।
আরও পড়ুনঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি তথ্য ২০২৫-২০২৬
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কি সেকেন্ড টাইম (Second Time) সুযোগ আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, সাধারণত গুচ্ছ পদ্ধতিতে এক বছর বিরতি দিয়ে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে।
প্রশ্ন ২: ভর্তি পরীক্ষায় কি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যাবে?
উত্তর: না, গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কোনো ধরনের ক্যালকুলেটর বা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি থাকে না।
প্রশ্ন ৩: গুচ্ছ পরীক্ষার প্রশ্ন কি শর্ট সিলেবাসে হবে?
উত্তর: সাধারণত এইচএসসি পরীক্ষার নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী প্রশ্ন করা হয়। তবে চূড়ান্ত সার্কুলারে এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।
প্রশ্ন ৪: নেগেটিভ মার্কিং কত?
উত্তর: প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা যাবে। ৪টি ভুল উত্তরে ১ নম্বর বিয়োগ হবে।
প্রশ্ন ৫:Architecture বা স্থাপত্য বিভাগে ভর্তির জন্য আলাদা কী করতে হবে?
উত্তর: সাধারণ ১০০ নম্বরের পরীক্ষার পাশাপাশি আপনাকে একটি আলাদা ড্রয়িং (অঙ্কন) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।
আপনার ভর্তি যাত্রা সফল হোক এই শুভকামনা রইল!






