দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ : সকল শ্রেণীর জন্যে

মানুষের জীবনের প্রকৃত অলংকার হলো তার চরিত্র। বিদ্যা বা জ্ঞান মানুষকে অন্ধকারের পথ থেকে আলোর পথে নিয়ে আসে ঠিকই, কিন্তু সেই বিদ্যার সাথে যদি নৈতিকতার মিলন না ঘটে, তবে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। আমাদের সমাজ ও শিক্ষাব্যবস্থায় এই বিষয়টি অনুধাবন করার জন্য দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ প্রবাদটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পড়ানো হয়। একজন মানুষ অনেক বড় ডিগ্রি অর্জন করতে পারেন, তিনি মহাজ্ঞানী হতে পারেন, কিন্তু তার অন্তরে যদি সততা না থাকে তবে সেই জ্ঞান সমাজের কোনো উপকারে আসে না। বরং একজন শিক্ষিত খারাপ মানুষ অশিক্ষিত মানুষের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। কারণ সে তার মেধাকে কাজে লাগিয়ে খুব সুকৌশলে অন্যের ক্ষতি করতে পারে। এই আর্টিকেলে আমরা ৬ষ্ঠ থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে এই চিরন্তন সত্যটির ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা প্রদান করব। ছাত্রছাত্রীরা যেন পরীক্ষায় এটি সঠিকভাবে লিখতে পারে এবং নিজেদের জীবনেও এর শিক্ষা প্রয়োগ করতে পারে, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।
দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ ৬ষ্ঠ শ্রেণি
মূলভাব
একজন মানুষ যদি অনেক শিক্ষিতও হন কিন্তু তার চরিত্র যদি খারাপ হয়, তবে তাকে এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ খারাপ মানুষের জ্ঞান কখনো অন্যের ভালো করতে পারে না।
সম্প্রসারিত ভাব
শিক্ষা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে তোলে। তবে কেবল বই পড়ে অনেক কিছু জানলেই কেউ ভালো মানুষ হয়ে যায় না। ভালো মানুষ হতে হলে অবশ্যই ভালো চরিত্রের অধিকারী হতে হবে। অনেক সময় আমরা দেখি যে কেউ অনেক পড়াশোনা করেছে কিন্তু সে অন্যদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে বা অন্যদের ক্ষতি করে। এমন মানুষকে বলা হয় দুর্জন। দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ আমাদের শেখায় যে, সাপের মাথায় যেমন দামী মণি থাকলেও আমরা সাপকে আদর করি না কারণ সে বিষাক্ত, ঠিক তেমনি একজন শিক্ষিত খারাপ মানুষও বিষাক্ত সাপের মতো। মণি যেমন সাপের বিষ দূর করতে পারে না, তেমনি বিদ্যাও একজন খারাপ মানুষের চরিত্রকে ভালো করতে পারে না যদি সে নিজে না চায়। তাই আমরা সবসময় ভালো মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করব এবং যারা জ্ঞানী হওয়া সত্ত্বেও খারাপ কাজ করে তাদের থেকে দূরে থাকব।
মন্তব্য
পরিশেষে বলা যায় যে, মেধা বা পড়াশোনার চেয়েও মানুষের ভালো গুণ বা চরিত্র বেশি মূল্যবান। তাই বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাদের ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করতে হবে।
আরও পড়ূনঃ স্বাধীনতা দিবস অনুচ্ছেদ : ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর জন্
দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ ৭ম শ্রেণি
মূলভাব
চরিত্রই মানুষের প্রধান গৌরব। অনেক বিদ্যা অর্জন করেও কেউ যদি নীতিহীন ও অসৎ হয়, তবে তাকে বর্জন করা উচিত। কারণ শিক্ষিত দুর্জন ব্যক্তি সমাজের জন্য বেশি ভয়ের কারণ।
সম্প্রসারিত ভাব
মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বলা হয় তার বিবেক এবং উন্নত চরিত্রের কারণে। শিক্ষা মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা অনেক জ্ঞান অর্জন করেও নিজেদের স্বভাব পরিবর্তন করতে পারেন না। তারা তাদের জ্ঞানকে অন্যের মঙ্গলে ব্যবহার না করে নিজের স্বার্থে বা অন্যের ক্ষতিতে ব্যবহার করেন। দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ ৭ম শ্রেণি এর আলোকে বলা যায় যে, মণিধারী সর্প যেমন বিপজ্জনক, একজন শিক্ষিত খারাপ মানুষও তেমনি মারাত্মক। সাপের মণি দামী হতে পারে কিন্তু সাপের দংশন থেকে তা কাউকে বাঁচাতে পারে না। ঠিক তেমনি একজন পণ্ডিত ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করলে জ্ঞান লাভ হতে পারে, কিন্তু তিনি যদি দুশ্চরিত্রের হন তবে তার সংস্পর্শে আমাদের নিজেদের চরিত্রও নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আমাদের সবসময় সাবধান থাকা উচিত এবং জ্ঞানীদের শ্রদ্ধা করার পাশাপাশি তাদের চরিত্রের দিকটিও খেয়াল রাখা উচিত।
মন্তব্য
সারকথা হলো, যে বিদ্যা মানুষের কল্যাণ করে না এবং চরিত্রের উন্নতি ঘটায় না, সেই বিদ্যার কোনো সামাজিক মূল্য নেই। তাই দুর্জন ব্যক্তিকে সর্বদা ত্যাগ করা বুদ্ধিমানের কাজ।
দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ ৮ম শ্রেণি
মূলভাব
বিদ্বান ব্যক্তি সমাজের শ্রদ্ধার পাত্র হলেও তার চরিত্র যদি কলুষিত হয়, তবে তিনি সম্মানের যোগ্য নন। মন্দ স্বভাবের শিক্ষিত মানুষকে সমাজের জন্য অভিশাপ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাই তাদের সঙ্গ ত্যাগ করা অপরিহার্য।
সম্প্রসারিত ভাব
বিদ্যা মানুষের জীবনকে আলোকিত করার মশাল স্বরূপ। কিন্তু এই মশাল যদি কোনো দস্যুর হাতে পড়ে তবে সে তা দিয়ে মানুষের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে। দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ ৮ম শ্রেণি এর মূল অর্থ হলো এটাই যে, জ্ঞান যখন অসৎ উদ্দেশ্য সম্পন্ন মানুষের কাছে থাকে, তখন তা ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। একজন অশিক্ষিত মানুষ যখন কোনো অন্যায় করে, তার ক্ষতির সীমা হয়তো কম থাকে। কিন্তু একজন শিক্ষিত মানুষ যখন তার মেধা খাটিয়ে কোনো অপরাধ করে, তখন তা সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি নাড়িয়ে দিতে পারে। যেমন সাপের মাথায় বহুমূল্যবান মণি থাকে কিন্তু সেই মণি কি সাপকে বিষমুক্ত করে? অবশ্যই না। বরং সেই মণির লোভে মানুষ সাপের কাছে গেলে প্রাণ হারানোর ঝুঁকি থাকে। একইভাবে শিক্ষিত দুর্জনের মোহে তার কাছে গেলে সে যেকোনো সময় বিষাক্ত ছোবল দিয়ে আপনার জীবন তছনছ করে দিতে পারে। তাই মেধার চেয়ে মনুষ্যত্ব ও চরিত্রকে বড় করে দেখতে হবে।
মন্তব্য
পরিশেষে বলা যায় যে, সুন্দর চরিত্রহীন বিদ্যা আসলে অর্থহীন। তাই আদর্শ নাগরিক হতে হলে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সচ্চরিত্রবান হওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।
দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ ৯মন শ্রেণি
মূলভাব
জ্ঞানের আড়ালে যদি কুচরিত্র লুকিয়ে থাকে, তবে সেই জ্ঞান মানবজাতির জন্য কোনো আশীর্বাদ নয়। দুর্জন ব্যক্তি তার পাণ্ডিত্যের প্রভাবে অধিকতর অনিষ্ট সাধন করতে পারে বলে তাকে পরিত্যাগ করা উচিত।
সম্প্রসারিত ভাব
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভাবসম্প্রসারণটি একটি বিশেষ শিক্ষা বহন করে। আমরা জানি যে শিক্ষা মানুষের অন্তরের চোখ খুলে দেয়। কিন্তু যদি কেউ সেই চোখ দিয়ে কেবল অন্ধকারের পথ খোঁজে তবে তার শিক্ষার কোনো সার্থকতা থাকে না। দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ ৯মন শ্রেণি এর মূল সুর হলো চরিত্রের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করা। একজন সজ্জন বা ভালো মানুষ যদি অল্প শিক্ষিতও হন, তিনি সমাজের জন্য যতটুকু উপকারী, একজন মহাজ্ঞানী দুর্জন ব্যক্তি তার চেয়ে হাজার গুণ বেশি ক্ষতিকর। কারণ শিক্ষিত ব্যক্তিটি জানে কীভাবে আইনের ফাঁক গলিয়ে মানুষকে ঠকাতে হয়। এই কারণেই মনীষীরা বিদ্যাকে একটি অস্ত্র হিসেবে তুলনা করেছেন যা ভালো মানুষের হাতে থাকলে সমাজ রক্ষা করে আর খারাপ মানুষের হাতে থাকলে সমাজ ধ্বংস করে। মণিধারী সাপের উপমাটি এখানে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। মণি যেমন সাপের বিষের চেয়ে বড় হতে পারে না, তেমনি বিদ্যাও একজন দুর্জনের কুপ্রবৃত্তিকে ছাপিয়ে যেতে পারে না। তাই নিরাপদ থাকতে হলে আমাদের অবশ্যই এমন মানুষকে এড়িয়ে চলতে হবে।
মন্তব্য
উপসংহারে বলা যায় যে, চরিত্র হলো মানবজীবনের ভিত্তি। ভিত্তিহীন দালান যেমন টেকে না, তেমনি চরিত্রহীন বিদ্যাও মানুষকে সম্মান এনে দিতে পারে না।
দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ ১০ম শ্রেণি ও এসএসসি
মূলভাব
মানবিক গুণাবলী ও নৈতিকতাহীন বিদ্যা প্রকৃতপক্ষে কোনো সম্পদ নয়। জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো ব্যক্তির আচরণ পশুবৃত্তির মতো হয়, তবে তিনি সমাজের জন্য বিপজ্জনক এবং বর্জনীয়।
সম্প্রসারিত ভাব
মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীর জন্য দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। এই প্রবাদের মাধ্যমে আমাদের চারিত্রিক পবিত্রতার জয়গান গাওয়া হয়েছে। একজন মানুষ তার কঠোর পরিশ্রম দিয়ে অনেক বড় বিজ্ঞানী, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হতে পারেন। কিন্তু তিনি যদি মিথ্যাচার, দুর্নীতি বা অন্যায়ের সাথে আপস করেন, তবে তার অর্জিত সব ডিগ্রি অর্থহীন হয়ে পড়ে। সমাজ তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে। সাপের মাথায় মণি থাকা যেমন বিস্ময়কর কিন্তু সাপের কামড় প্রাণঘাতী, তেমনি দুর্জনের পাণ্ডিত্য আকর্ষণীয় মনে হলেও তার সংস্পর্শ আত্মঘাতী হতে পারে। একজন মূর্খ চোর হয়তো একটি বাড়ির সামান্য কিছু চুরি করে, কিন্তু একজন শিক্ষিত দুর্জন ব্যক্তি তার বুদ্ধিকে কাজে লাগিয়ে একটি ব্যাংক বা একটি জাতির ভবিষ্যৎ লুট করে নিতে পারে। তাই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা। জ্ঞান যদি অহংকার ও অন্যায়ের জন্ম দেয়, তবে সেই জ্ঞান পরিত্যাজ্য। নিচে একটি তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে সজ্জন ও দুর্জনের পার্থক্য দেখানো হলো।
বিদ্বান সজ্জন বনাম বিদ্বান দুর্জন
| বৈশিষ্ট্য | বিদ্বান সজ্জন | বিদ্বান দুর্জন |
| জ্ঞানের উদ্দেশ্য | পরোপকার ও সমাজের উন্নয়ন। | ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রতারণা। |
| আচরণ | বিনয়ী ও নম্র স্বভাবের। | উদ্ধত ও অহংকারী। |
| গ্রহণযোগ্যতা | সর্বজন শ্রদ্ধেয় ও অনুকরণীয়। | সর্বদাই সমালোচিত ও ত্যাজ্য। |
| সমাজের ওপর প্রভাব | শান্তির বার্তা নিয়ে আসে। | বিশৃঙ্খলা ও ভয় তৈরি করে। |
মন্তব্য
পরিশেষে বলা যায় যে, চরিত্রহীন ব্যক্তির বিদ্যা তার জীবনকে সুন্দর করতে পারে না। বরং তা তাকে আরও চতুর করে তোলে। তাই নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়তে হলে দুর্জন বিদ্বান ব্যক্তিকে পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি।
দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি
মূলভাব
পাণ্ডিত্য বা বুদ্ধিবৃত্তি মানুষের ভূষণ হলেও সুন্দর চরিত্র হলো সেই ভূষণের প্রাণ। নৈতিকতা বিবর্জিত জ্ঞান মূলত একটি বিষাক্ত শক্তির মতো, যা ব্যক্তি ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই চরিত্রহীন মহাজ্ঞানীকেও পরিত্যাগ করা শ্রেয়।
সম্প্রসারিত ভাব
উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ এর বিশ্লেষণ হওয়া উচিত গভীর ও দার্শনিক। মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল মস্তিষ্কের কোষে জমা হওয়া তথ্যের পরিমাণে নয়, বরং হৃদয়ের প্রসন্নতায়। গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন যে জ্ঞানই পুণ্য। অর্থাৎ প্রকৃত জ্ঞান মানুষকে পুণ্যের পথে চালিত করে। কিন্তু যখন বিদ্যা কোনো কুটিল হৃদয়ে আশ্রয় নেয়, তখন তা হয়ে ওঠে এক ভয়ংকর মারণাস্ত্র। আধুনিক বিশ্বের দিকে তাকালে আমরা দেখি যে, বিজ্ঞানের অনেক বড় বড় আবিষ্কার যখন কোনো নৈতিকতাহীন মানুষের হাতে পড়েছে, তখন তা যুদ্ধের অস্ত্র বা হ্যাকিংয়ের মতো অপরাধে ব্যবহৃত হয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে মেধা যখন বিবেকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে তখন তা পশুবৃত্তির চেয়েও ভয়াবহ হয়। প্রাচীন ভারতের নীতিনির্ধারকরা তাই সাপের মণির উদাহরণ দিয়েছিলেন। সাপের মাথায় মণি থাকা সত্ত্বেও সাপটি যেমন ভয়ংকর, ঠিক তেমনি বিদ্বান ব্যক্তির খারাপ চরিত্রও তাকে সমাজচ্যুত করে। একজন মানুষের সামাজিক অবস্থান তার মানবিকতা দিয়ে বিচার করা উচিত, ডিগ্রি দিয়ে নয়। মেধা যদি স্বার্থের চশমা পরে তবে তা অন্ধকারই ডেকে আনে। তাই উচ্চতর শিক্ষার এই পর্যায়ে এসে আমাদের মনে রাখা উচিত যে, আমরা যেন কেবল মেধাবী না হয়ে বরং বিবেকবান ও সচ্চরিত্রবান নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠি। দুর্জন ব্যক্তি তার জ্ঞানের আলোয় অন্যকে পথ দেখানোর বদলে বিভ্রান্ত করে বেশি। তাই এমন মানুষের সাহচর্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মন্তব্য
উপসংহারে বলা যায় যে, সুন্দর চরিত্রহীন বিদ্যা আসলে একটি প্রাণহীন দেহের মতো। যা বাইরে থেকে আকর্ষণীয় হলেও ভেতরে পচনশীল। তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে সচ্চরিত্রের জয়গান গাওয়া এবং দুর্জন বিদ্বানকে পরিহার করাই হলো বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও পড়ূনঃ কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ : সকল শ্রেণীর জন্যে
উপসংহার
পুরো আর্টিকেলের প্রতিটি অংশের সারকথা হলো এই যে, শিক্ষা এবং চরিত্র মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। শিক্ষা আমাদের শক্তি দেয় আর চরিত্র সেই শক্তিকে সঠিক দিকে চালিত করে। আমরা ৬ষ্ঠ থেকে এইচএসসি পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ এর যে ব্যাখ্যাগুলো দেখলাম, তার মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা জাগ্রত করা। কেবল ভালো ফলাফল করলেই জীবন সার্থক হয় না, বরং সেই ফলাফলের সাথে যদি বিনয় ও সততা না থাকে তবে সব পরিশ্রম বৃথা যায়। মণিধারী সাপের উপমাটি আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয় যে, আকর্ষণীয় বস্তুর ভেতরেও বিষ থাকতে পারে। তাই সঙ্গ নির্বাচনে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এই ভাবসম্প্রসারণের শিক্ষা যদি আমরা আমাদের বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তবে একটি সুন্দর ও শোষণমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার কিছু টিপস
পরীক্ষায় ভাবসম্প্রসারণটি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে পারলে অনেক ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব। নিচে কিছু সহজ কৌশল দেওয়া হলো যা তোমরা অনুসরণ করতে পারো।
প্রথমত, ভাবসম্প্রসারণ লেখার সময় মূলভাব অংশটি খুব সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় রাখার চেষ্টা করবে। এখানে সরাসরি প্রবাদের মূল রহস্যটি ফুটিয়ে তুলতে হবে। দ্বিতীয়ত, সম্প্রসারিত ভাব অংশে প্রাসঙ্গিক উদাহরণ বা উপমা ব্যবহার করবে। যেমন সাপের মাথার মণি বা প্রদীপের আলোর উপমাটি এখানে খুব কার্যকর। তৃতীয়ত, ভাষার ব্যবহারে যত্নশীল হতে হবে। খুব বেশি জটিল শব্দ ব্যবহার না করে সহজ ও সাবলীল বাক্যে মনের ভাব প্রকাশ করা ভালো। চতুর্থত, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে লিখলে কোনো বিখ্যাত মনীষীর প্রাসঙ্গিক উক্তি যোগ করলে লেখার মান বহুগুণ বেড়ে যায়। পঞ্চমত, লেখার মধ্যে যেন ধারাবাহিকতা থাকে সেদিকে খেয়াল রাখবে। হুট করে এক প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলে লেখার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। সবশেষে, হাতের লেখা পরিষ্কার রাখা এবং কাটাকাটি এড়িয়ে চলা একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর লক্ষণ। এই নিয়মগুলো মেনে দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ লিখলে তোমরা অবশ্যই কাঙ্ক্ষিত নম্বর পাবে।
বন্ধুরা, আশা করি এই বিস্তারিত আর্টিকেলটি তোমাদের অনেক উপকারে আসবে। তোমাদের কোনো বিশেষ প্রশ্ন বা পরবর্তী কোনো বিষয়ের ওপর আর্টিকেল প্রয়োজন হলে আমাদের জানাতে পারো। আমরা সবসময় তোমাদের পাশে আছি। ধন্যবাদ।






