অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ জেনে নাও
Last updated on December 28th, 2025 at 10:39 am
পড়তে লাগবে 9 মিনিটপৃথিবীতে ন্যায় এবং অন্যায়ের লড়াই চিরন্তন। সমাজকে সুন্দর ও বাসযোগ্য রাখতে হলে ন্যায়ের জয় সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘নৈবেদ্য’ কাব্যগ্রন্থের একটি কালজয়ী চরণে বলা হয়েছে যে, অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে, তব ঘৃণা যেন তারে তৃণসম দহে। এই প্রবাদটি আমাদের জীবনের এক রূঢ় সত্যকে তুলে ধরে। সাধারণত আমরা মনে করি, যে ব্যক্তি সরাসরি অপরাধ বা অন্যায় করে, কেবল সেই দোষী। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, যে ব্যক্তি অন্যায়ের প্রতিবাদ না করে নিরবে তা সহ্য করে যায়, সেও সমানভাবে অপরাধী। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ বিষয়টি আমাদের শেখায় যে, মৌনতা অনেক সময় অপরাধীর সাহস বাড়িয়ে দেয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া কেবল নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি সামাজিক কর্তব্য। বর্তমান অস্থির সময়ে এই ভাবসম্প্রসারণটির গুরুত্ব অপরিসীম। নিচে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদান করা হলো।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ ৬ষ্ঠ শ্রেণি
মূলভাব
অন্যায় করা যেমন বড় অপরাধ, অন্যায় সহ্য করাও তেমনি বড় অপরাধ। অপরাধীকে যেমন ঘৃণা করা উচিত, তেমনি যে ব্যক্তি অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না তাকেও ঘৃণা করা উচিত।
সম্প্রসারিত ভাব
আমাদের সমাজে অনেক সময় দেখা যায় কেউ কাউকে অকারণে মারে বা গালি দেয়। যে ব্যক্তি এই কাজটি করছে সে অবশ্যই খারাপ মানুষ। কিন্তু যারা আশেপাশে দাঁড়িয়ে এই অন্যায়টি দেখেও চুপ থাকে, তারাও আসলে ভালো মানুষ নয়। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, নিরবে অন্যায় সহ্য করলে অন্যায়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। আমরা যদি অন্যায় দেখে প্রতিবাদ না করি, তবে অপরাধী মনে করবে সে যা করছে তা ঠিক। এতে সে আরও বড় বড় অপরাধ করার সাহস পাবে। তাই আমাদের উচিত সবসময় ন্যায়ের পক্ষে থাকা। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে সমাজ থেকে খারাপ কাজ কমে যাবে এবং সবাই শান্তিতে থাকতে পারবে। ছোটবেলা থেকেই আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস সঞ্চয় করতে হবে।
মন্তব্য
পরিশেষে বলা যায় যে, সুন্দর জীবন গড়তে হলে আমাদের সাহসী হতে হবে। আমরা নিজেরা যেমন অন্যায় করব না, তেমনি অন্যকে অন্যায় করতে দেখলে অবশ্যই তার প্রতিবাদ করব।
আরও পড়ুনঃ সময়ানুবর্তিতা রচনা 20 পয়েন্ট : ৬ষ্ঠ থেকে ১২শ শ্রেণীর জন্যে…
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ ৭ম শ্রেণি
মূলভাব
অন্যায়কারী এবং অন্যায়ের প্রশ্রয়দাতা উভয়েই সমান অপরাধী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা অপরাধীর হাতকে আরও শক্তিশালী করে তোলে, যা সমাজের জন্য অমঙ্গলজনক।
সম্প্রসারিত ভাব
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ ৭ম শ্রেণি এর আলোকে বলা যায় যে, সাহসের অভাব বা স্বার্থপরতার কারণে আমরা অনেক সময় চোখের সামনে অন্যায় হতে দেখেও মুখ ফিরিয়ে নিই। আমরা ভাবি, এটি তো আমার সাথে হচ্ছে না, তাই আমার প্রতিবাদের কী প্রয়োজন? কিন্তু এই ভাবনাটি অত্যন্ত ভুল। আজ অন্য একজনের সাথে অন্যায় হচ্ছে দেখে আপনি চুপ থাকছেন, কাল হয়তো আপনার সাথেও একই অন্যায় হবে এবং সেদিন অন্যরাও আপনার মতো চুপ থাকবে। অন্যায়ের প্রতিবাদ না করা মানে হলো পরোক্ষভাবে অপরাধীকে সাহায্য করা। সমাজে শান্তি বজায় রাখতে হলে অন্যায়ের মূল উপড়ে ফেলতে হয়। প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর অন্যায়কে প্রতিহত করে। তাই আমাদের উচিত কেবল নিজের কথা চিন্তা না করে সমাজের মঙ্গলের কথা ভাবা। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই হলো প্রকৃত মনুষ্যত্বের পরিচয়।
মন্তব্য
উপসংহারে বলা যায় যে, ন্যায়ের পথে চলাই হলো শ্রেষ্ঠ ধর্ম। আমরা যদি একতাবদ্ধ হয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, তবে পৃথিবী থেকে অন্যায় চিরতরে বিদায় নেবে।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ ৮ম শ্রেণি
মূলভাব
সরাসরি অপরাধ করা এবং অপরাধ দেখে প্রতিবাদ না করে নিরব থাকা উভয়ই সমান দণ্ডনীয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও প্রতিবাদী মনোভাব পোষণ না করলে সমাজ অপরাধীদের চারণভূমিতে পরিণত হয়।
আরও পড়ূনঃ মাদকাসক্তি রচনা ২০ পয়েন্ট : ৬ষ্ঠ থেকে ১২শ শ্রেণীর জন্যে…
সম্প্রসারিত ভাব
মানবজীবনে নীতি ও আদর্শের গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা অনেক সময় অন্যায়কারীকে অনেক ঘৃণা করি এবং তাকে শাস্তি দেওয়ার কথা বলি। কিন্তু যে ব্যক্তি অন্যায়ের শিকার হয়েও ভয়ে মুখ খোলে না বা যে সাক্ষী সব জেনেও চুপ থাকে, তাদের ভূমিকাও অত্যন্ত নেতিবাচক। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ ৮ম শ্রেণি এর মাধ্যমে কবি আমাদের বিবেককে জাগ্রত করতে চেয়েছেন। অপরাধী যখন দেখে যে তার অন্যায়ের কোনো প্রতিবাদ হচ্ছে না, তখন সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। নিরবতা অপরাধীর মনে এই ধারণা জন্ম দেয় যে সমাজ তাকে সমর্থন করছে। এই নিরবতা বা সহ্য করার মানসিকতা থেকেই সমাজে অরাজকতা জন্ম নেয়। তাই ন্যায়ের স্বার্থে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জরুরি। যিনি অন্যায় সহ্য করেন, তিনি আসলে নিজের ব্যক্তিত্ব ও অধিকার বিসর্জন দেন। এতে তার নিজের কোনো সম্মান থাকে না এবং সেও অপরাধীর মতো ঘৃণার পাত্র হয়। নিচে একটি সারণির মাধ্যমে অন্যায়ের প্রতি ভিন্ন ভিন্ন মনোভাবের প্রভাব দেখানো হলো।
অন্যায়ের প্রতি মনোভাব ও তার প্রভাব
| মনোভাবের ধরণ | সামাজিক প্রভাব |
| সরাসরি অন্যায় করা | সমাজে বিশৃঙ্খলা ও ভয়ের সৃষ্টি করে। |
| নিরবে অন্যায় সহ্য করা | অপরাধীকে প্রশ্রয় দেয় ও অপরাধের মাত্রা বাড়ায়। |
| অন্যায়ের প্রতিবাদ করা | ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা করে ও অপরাধীকে দমন করে। |
মন্তব্য
সারকথা হলো, সমাজ থেকে অন্যায় দূর করতে হলে আমাদের কেবল ভালো কাজ করলেই হবে না, বরং অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠিন দেওয়াল হয়ে দাঁড়াতে হবে।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ ৯মন শ্রেণি
মূলভাব
অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা এবং অন্যায়ের সহযোগী হওয়া সমার্থক। যে ব্যক্তি কাপুরুষের মতো অন্যায় সয়ে যায়, সেও সমাজ ও ঈশ্বরের কাছে অন্যায়কারীর মতোই সমান অপরাধী ও ঘৃণ্য।
সম্প্রসারিত ভাব
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই ভাবসম্প্রসারণটি অত্যন্ত গভীর জীবনবোধের শিক্ষা দেয়। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ ৯মন শ্রেণি এর মূল দর্শন হলো অন্যায়ের মূলোৎপাটন করা। পৃথিবীতে যত অশান্তি হয়েছে তার বড় কারণ কেবল দুষ্ট মানুষের কাজ নয়, বরং ভালো মানুষের নিরবতা। অন্যায়কারী যখন কোনো অপরাধ করে, তখন তার শক্তি থাকে কেবল তার নিজের মধ্যে। কিন্তু যখন সমাজের মানুষ তা নিরবে মেনে নেয়, তখন অপরাধীর শক্তি বহুগুণ বেড়ে যায়। অন্যায়ের সহনশীলতা পরোক্ষভাবে অন্যায়কে উৎসাহিত করে। মানুষ হিসেবে আমাদের একটি বিশেষ গুণ হলো বিবেক। এই বিবেক আমাদের শেখায় কোনটি সঠিক এবং কোনটি ভুল। যে ব্যক্তি তার বিবেককে বিসর্জন দিয়ে অন্যায়ের সাথে আপস করে, সে আসলে মানুষের মর্যাদা হারায়। অনেক সময় ব্যক্তিগত লাভের আশায় বা বিপদে পড়ার ভয়ে আমরা চুপ থাকি, কিন্তু এই নিরবতাই একসময় আমাদের বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরের কোনো বিকল্প নেই।
মন্তব্য
পরিশেষে বলা যায় যে, অন্যায়কারীর চেয়ে অন্যায়ের কাছে আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তি বেশি শোচনীয়। তাই উন্নত চরিত্র গঠন করতে হলে আমাদের অবশ্যই ন্যায়ের পক্ষে অনড় থাকতে হবে।
আরও পড়ূনঃ প্রতিবেদন রচনা লেখার নিয়ম : পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন ও নমুনা
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ ১০ম শ্রেণি ও এসএসসি
মূলভাব
অপরাধী এবং অপরাধের নির্বাক দর্শক উভয়েই নৈতিক ও সামাজিকভাবে সমান অপরাধী। অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা এবং বলিষ্ঠ প্রতিবাদ না থাকলে সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
সম্প্রসারিত ভাব
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ একটি ধ্রুব সত্য হিসেবে সামনে আসে। প্রখ্যাত সাহিত্যিক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই বাণীর মাধ্যমে আমাদের সমাজকে এক সতর্কবার্তা দিয়েছেন। অন্যায় একটি বিষবৃক্ষের মতো। একে যদি শুরুতেই উপড়ে ফেলা না হয়, তবে তা ডালপালা মেলে পুরো সমাজকে গ্রাস করে নেবে। যে ব্যক্তি অন্যায় করছে সে বিষ ছড়াচ্ছে, আর যে অন্যায় সয়ে যাচ্ছে সে সেই বিষকে গ্রহণ করছে। উভয়ই সমাজের জন্য ক্ষতিকর। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ ১০ম শ্রেণি এর প্রেক্ষাপটে দেখা যায় যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপরাধী সংখ্যায় খুব কম থাকে, কিন্তু প্রতিবাদীর অভাবের কারণেই তারা দাপিয়ে বেড়ায়। সহনশীলতা একটি মহৎ গুণ হলেও অন্যায়ের ক্ষেত্রে সহনশীলতা হলো কাপুরুষতা। যে জাতি অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভুলে যায়, সেই জাতির কপালে লাঞ্ছনা জোটে। আমাদের উচিত অন্যায়ের শিকড় উৎপাটন করা। আপনি যখন একটি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেন, তখন আপনি কেবল একজন মানুষকে সাহায্য করেন না, বরং আপনি পুরো সমাজকে নিরাপদ করেন।
মন্তব্য
উপসংহারে বলা যায় যে, অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া মানে হলো নিজের ধ্বংস ডেকে আনা। তাই ন্যায়ের দীপশিখা জ্বালাতে হলে আমাদের সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ হতে হবে।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি
মূলভাব
অন্যায়ের সাথে আপস করা মূলত অন্যায়েরই নামান্তর। অপরাধীর চেয়েও অপরাধের নির্বাক প্রশ্রয়দাতা অনেক সময় বেশি বিপজ্জনক হয়, কারণ তার নিরবতাই অপরাধের পথ প্রশস্ত করে। নৈতিক দাহিকা শক্তির অভাবে যারা অন্যায় সহ্য করে, তারা মানবতার চরম শত্রু।
সম্প্রসারিত ভাব
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ এর ব্যাখ্যাটি হওয়া উচিত অনেক বেশি দার্শনিক। মানুষের অস্তিত্বের প্রধান শর্ত হলো তার মনুষ্যত্ব ও বিবেক। বিবেক যখন ঘুমিয়ে পড়ে, তখন মানুষ আর পশুর মধ্যে কোনো তফাত থাকে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা মানুষের একটি মৌলিক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে বুঝিয়েছেন যে, অন্যায়কারীকে ক্ষমা করা যায় না, আর যারা অন্যায় সয়ে যায় তারাও সমান ঘৃণার পাত্র। কেন অন্যায় সহ্যকারীকে কবির ভাষায় ‘তৃণসম দহে’ বা তৃণের মতো পুড়িয়ে ফেলার কথা বলা হয়েছে? কারণ হলো, এই নিরবতাই এক সময় স্বৈরাচার বা বড় ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের জন্ম দেয়। একজন অন্যায়কারী হয়তো একজন ব্যক্তিকে আঘাত করে, কিন্তু যারা তা সহ্য করে তারা পুরো নৈতিক মূল্যবোধকে আঘাত করে। উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে যে, নিরপেক্ষ থাকা সব সময় ভালো নয়। বিশেষ করে যখন সত্য ও মিথ্যার লড়াই হয়, তখন নিরব থাকা মানে মিথ্যার পক্ষ নেওয়া। যে জাতি অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে উঠতে পারে না, সেই জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকার। তাই স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার জনমত প্রয়োজন।
মন্তব্য
পরিশেষে বলা যায় যে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা পোষণ করা এবং সরাসরি প্রতিবাদ করা উন্নত চেতনার পরিচয়। অন্যায়কারী ও সহ্যকারী উভয়েই যেহেতু সমাজকে কলুষিত করে, তাই উভয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া প্রতিটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব।
আরও পড়ুনঃ ভাবসম্প্রসারণ লেখার নিয়ম : বিস্তারিত জানুন পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন
উপসংহার
পুরো আর্টিকেলে আমরা অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে ভাবসম্প্রসারণ এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ৬ষ্ঠ থেকে এইচএসসি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই আমরা দেখেছি যে, অন্যায় সহ্য করা কোনো মহানুভবতা নয় বরং এটি অপরাধ। আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রকে নিরাপদ করতে হলে আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। আমরা যদি নিজেরা সৎ হই এবং অন্যের ওপর অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, তবে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পৃথিবী গড়ে উঠবে। ছোট বড় সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে যদি আমরা শুরুতেই বাধা দিতে পারি, তবে বড় কোনো বিপর্যয় আমাদের স্পর্শ করতে পারবে না। তাই আসুন আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি যে, আমরা নিজেরা কখনো অন্যায় করব না এবং চোখের সামনে কোনো অন্যায় হতে দেখলে তা নিরবে সয়ে যাব না।
পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার কিছু কৌশল
১. মূলভাব লেখার সময় সরাসরি প্রবাদটির সারমর্ম লিখুন। এটি যেন ২ থেকে ৩ লাইনের বেশি না হয়। প্রবাদটির নিহিত রহস্য যেন এখানে খুব স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
২. সম্প্রসারিত ভাব অংশে প্যারাগ্রাফ ভাগ করে লিখুন। প্রতিটি প্যারায় নতুন নতুন তথ্য এবং উদাহরণ দিন। প্রয়োজনে বাস্তব জীবনের কোনো ঘটনা বা মনীষীদের জীবনী থেকে উদাহরণ দিন।
৩. মন্তব্য অংশে পুরো আলোচনার একটি শক্তিশালী ইতি টানুন। এটি আপনার লেখার চূড়ান্ত গভীরতা প্রকাশ করে এবং পরীক্ষকের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৪. হাতের লেখা পরিষ্কার রাখুন এবং অযথা কাটাকাটি পরিহার করুন। বাংলা বানান ভুলের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে, কারণ বানান ভুল হলে লেখার গাম্ভীর্য নষ্ট হয়।






