প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ : সকল শ্রেণীর জন্যে

সৃষ্টির এই বিশাল রহস্যময় জগতে অগণিত প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে। ক্ষুদ্র একটি ঘাস থেকে শুরু করে বনের বাঘ কিংবা আকাশের পাখি সবারই প্রাণ আছে। এই প্রাণশক্তিই তাদের চলার, ফেরার এবং বেঁচে থাকার প্রেরণা দেয়। তবে কেবল এই প্রাণ থাকলেই কি একটি জীবকে শ্রেষ্ঠ বলা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলেই আমাদের সামনে আসে প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ বিষয়টি। প্রাণ সঞ্চার হওয়া একটি প্রাকৃতিক বা জৈবিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে একটি জীব জন্ম নেয় এবং পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে টিকে থাকে। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল জীবন ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের আছে একটি উন্নত মন, একটি সংবেদনশীল হৃদয় এবং একটি বিচারবুদ্ধি সম্পন্ন বিবেক। এই মন এবং বিবেকের সমন্বয়েই মানুষ অন্য সকল প্রাণী থেকে আলাদা হয়ে ওঠে। যখন আমরা এই ভাবসম্প্রসারণটি নিয়ে আলোচনা করি, তখন আমাদের সামনে জীবনের দুটি দিক পরিষ্কার হয়ে ওঠে। একটি হলো কেবল নিজের জীবন রক্ষা করা, আর অন্যটি হলো অন্যের জন্য নিজের জীবনকে অর্থবহ করে তোলা। বিশেষ করে ছাত্রজীবনে এই বিষয়টি অনুধাবন করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান অর্জন করে কেউ মানুষ হতে পারে না, তার জন্য প্রয়োজন হয় মনুষ্যত্বের নিরন্তর সাধনা। এই আর্টিকেলে আমরা ধাপে ধাপে বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এই গভীর জীবনবোধের কথাগুলো সহজ ভাষায় এবং একাডেমিক নিয়মে তুলে ধরব।
প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ ৬ষ্ঠ শ্রেণি
মূলভাব
প্রাণ থাকলেই একটি জীবকে প্রাণী বলা যায়, কিন্তু তাকে মানুষ বলতে হলে অবশ্যই একটি উন্নত ও দয়ালু মনের অধিকারী হতে হয়। কেবল প্রাণের অস্তিত্ব একজনকে প্রকৃত মানুষের মর্যাদা দিতে পারে না।
সম্প্রসারিত ভাব
আমাদের চারপাশে তাকালে আমরা অনেক পশুপাখি দেখতে পাই। যেমন গরু, ছাগল, বিড়াল বা পাখি। এদের সবারই প্রাণ আছে, তাই এদের আমরা প্রাণী বলি। প্রাণীরা খাবার খায়, বড় হয় এবং বংশবৃদ্ধি করে। মানুষও ঠিক একইভাবে খাবার খায় এবং বড় হয়। কিন্তু মানুষের সাথে অন্য প্রাণীদের একটি বড় পার্থক্য হলো মানুষের মন। প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, আমরা যদি কেবল নিজেদের খাবার আর ঘুমের চিন্তা করি, তবে আমরা পশুর মতোই থেকে যাব। একটি পশু যেমন অন্যের দুঃখ বুঝতে পারে না, আমরা যদি মানুষের বিপদে এগিয়ে না যাই তবে আমাদের প্রাণের কোনো মূল্য থাকবে না। ছোটবেলা থেকেই আমাদের দয়া, মমতা এবং বড়দের শ্রদ্ধা করার মতো গুণগুলো অর্জন করতে হবে। মনের সুন্দর গুণগুলোই আমাদের পশু থেকে আলাদা করে শ্রেষ্ঠ আসনে বসায়।
মন্তব্য
উপসংহারে বলা যায় যে, মনের অভাব থাকলে মানুষের আকার নিয়েও কেউ পশু সমতুল্য হতে পারে। তাই নিজেকে শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর মনের চর্চা করতে হবে।
প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ ৭ম শ্রেণি
মূলভাব
প্রাণ এবং মন এই দুটির সমন্বয়েই একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষের পরিচয় পাওয়া যায়। যার কেবল প্রাণ আছে কিন্তু হিতাহিত জ্ঞান বা অন্যের প্রতি মমতা নেই, সে আসলে আকৃতিতে মানুষ হলেও প্রকৃতিতে পশুরই নামান্তর।
সম্প্রসারিত ভাব
প্রকৃতিতে প্রাণের অভাব নেই। ক্ষুদ্র একটি পিঁপড়া থেকে শুরু করে বিশাল হাতি পর্যন্ত সবার মাঝেই প্রাণের স্পন্দন লক্ষ্য করা যায়। জীবন ধারণের মৌলিক চাহিদাগুলো সবার ক্ষেত্রেই প্রায় সমান। তবে মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব কারণ মানুষের বিবেক ও উন্নত চিন্তা করার ক্ষমতা আছে। প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ ৭ম শ্রেণি এর আলোকে বলা যায় যে, মানুষ যখন তার বিবেককে বিসর্জন দিয়ে কেবল নিজের স্বার্থ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন সে তার শ্রেষ্ঠত্ব হারায়। পশুর কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই, কিন্তু মানুষের প্রতিটি কাজের পেছনে সমাজের প্রতি দায়িত্ব থাকে। শিক্ষা আমাদের সেই মনের অন্ধকার দূর করে আলো জ্বালায়। আমরা যদি শিক্ষিত হয়েও মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করি বা অসহায়ের পাশে না দাঁড়াই, তবে আমাদের সেই প্রাণশক্তির কোনো মর্যাদা সমাজ দেবে না। তাই প্রাণের পাশাপাশি মনকে সুন্দর করার জন্য আমাদের সততা ও পরোপকারের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে।
মন্তব্য
পরিশেষে বলা যায় যে, কেবল জন্মগতভাবে মানুষ হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং নিজের সৎ কাজের মাধ্যমে মনুষ্যত্ব অর্জন করাই জীবনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আরও পড়ূনঃ বর্ষাকাল রচনা ২০ পয়েন্ট : ৬ষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর জন্যে
প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ ৮ম শ্রেণি
মূলভাব
মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার প্রাণের স্পন্দনে নয়, বরং তার মানবিক গুণাবলির বিকাশে। বিবেকহীন মানুষ ও বনের পশুর মধ্যে চারিত্রিক কোনো মৌলিক পার্থক্য থাকে না।
সম্প্রসারিত ভাব
জীবনের মূল চালিকাশক্তি হলো প্রাণ। কিন্তু মানুষের ক্ষেত্রে এই প্রাণের সাথে বিবেক ও বুদ্ধির এক অপূর্ব মিলন ঘটেছে। প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ ৮ম শ্রেণি এর মাধ্যমে আমরা শিখি যে, জৈবিক জন্ম আমাদের প্রাণীর পরিচয় দেয় ঠিকই, কিন্তু আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই আমাদের মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। একজন মানুষ যদি তার মেধা ও জ্ঞানকে কেবল নিজের উদর পূর্তির জন্য ব্যয় করে, তবে সে পশুর মতোই একটি জীব। পশুরা চলে তাদের প্রবৃত্তির তাড়নায়, কিন্তু মানুষ চলে তার বিবেকের নির্দেশে। যখন মানুষের মধ্যে দয়া, মায়া, ক্ষমা ও সহমর্মিতা লোপ পায়, তখন তার প্রাণের অস্তিত্ব থাকলেও সে আত্মিক দিক থেকে মৃত বলে গণ্য হয়। সমাজ বা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিতে গেলে কেবল শিক্ষিত মানুষের চেয়ে বিবেকবান মানুষের প্রয়োজন বেশি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, প্রাণীর ধর্ম হলো কেবল বেঁচে থাকা, আর মানুষের ধর্ম হলো সুন্দরভাবে বেঁচে থেকে জগতকে সুন্দর করা। নিচে একটি ছকের মাধ্যমে বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা হলো।
প্রাণী ও মানুষের চারিত্রিক পার্থক্য
| বৈশিষ্ট্য | প্রাণী | মানুষ |
| জীবন চালনা | প্রবৃত্তি ও সহজাত বুদ্ধি | বিবেক ও উন্নত যুক্তি |
| প্রধান লক্ষ্য | আহার, নিদ্রা ও বংশবৃদ্ধি | পরোপকার ও সমাজের উন্নয়ন |
| পরিচয় | কেবল জৈবিক অস্তিত্ব | চারিত্রিক উচ্চতা ও নৈতিকতা |
মন্তব্য
সারকথা হলো, সুন্দর ও সুশৃঙ্খল সমাজ গঠনে মনবান মানুষের প্রয়োজন অপরিসীম। প্রাণকে মনুষ্যত্বের শক্তিতে রূপান্তর করাই একজন সার্থক মানুষের আসল পরিচয়।
প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ ৯ম শ্রেণি
মূলভাব
প্রাণী ও মানুষের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো মন ও বিবেকের। প্রাণের অস্তিত্ব জৈবিক জীবন দান করলেও, মনুষ্যত্বই মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীবের আসনে অধিষ্ঠিত করে। যার মন নেই, সে প্রাণের অধিকারী হয়েও পশুর সমতুল্য।
সম্প্রসারিত ভাব
পৃথিবীর প্রতিটি জীবের মধ্যেই প্রাণের স্পন্দন রয়েছে। এই প্রাণশক্তিই জীবকে সচল রাখে এবং বংশবিস্তারে সহায়তা করে। কিন্তু প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ ৯ম শ্রেণি এর আলোকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, কেবল জৈবিক অস্তিত্বই মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হতে পারে না। পশু ও পাখিরও প্রাণ আছে, তারাও আহার জোগাড় করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে বেঁচে থাকার লড়াই করে। কিন্তু তাদের মধ্যে ভালো ও মন্দের বিচার করার মতো কোনো উন্নত নৈতিকতা নেই। মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার হওয়ার একমাত্র কারণ হলো তার উন্নত মন ও বিবেক। মানুষ যখন তার এই বিবেককে কাজে না লাগিয়ে কেবল নিজের ভোগবিলাস নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন সে তার প্রকৃত পরিচয় হারায়। একজন প্রকৃত মানুষের হৃদয়ে দয়া, ক্ষমা, মমতা এবং ত্যাগের মতো গুণাবলী থাকা আবশ্যক। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য এই শিক্ষাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, পরীক্ষায় ভালো করার পাশাপাশি নিজের হৃদয়কে বড় করা। যার মধ্যে অন্যের জন্য কোনো ভালোবাসা নেই, তার প্রাণের কোনো মহত্ত্ব নেই এবং সে সমাজের কোনো উপকারে আসে না।
মন্তব্য
উপসংহারে বলা যায় যে, প্রাণ সঞ্চার করা প্রকৃতির একটি সাধারণ দান কিন্তু মনুষ্যত্ব অর্জন করা নিজের সাধনার বিষয়। তাই আমাদের প্রতিটি কাজ যেন সুন্দর মন ও মানবিক বোধ দ্বারা পরিচালিত হয়।
প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ ১০ম শ্রেণির জন্যে
মূলভাব
প্রাণীর পরিচয় তার জৈবিক ক্রিয়াকলাপে সীমাবদ্ধ, কিন্তু মানুষের পরিচয় তার আত্মিক ও নৈতিক বিকাশে। বিবেক ও মনুষ্যত্বহীন মানুষ আসলে আকার-ইঙ্গিতে মানুষ হলেও স্বভাবগতভাবে পশুর মতোই বর্জনীয়।
সম্প্রসারিত ভাব
মাধ্যমিক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীর জন্য প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ বিষয়টি জীবনদর্শনের এক গভীর পাঠ। জগতের সকল জীবের প্রাণ আছে, আর সেই প্রাণের তাগিদেই সবাই বেঁচে থাকে। তবে প্রাণ থাকা মানেই শ্রেষ্ঠ হওয়া নয়। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মানুষের একটি স্বতন্ত্র মর্যাদা আছে, যা তার মন বা মনুষ্যত্ব থেকে আসে। প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ ১০ম শ্রেণি এর প্রেক্ষাপটে বলা যায় যে, বর্তমান যান্ত্রিক সভ্যতায় আমরা অনেক সময় রোবটের মতো হয়ে পড়ছি। আমরা কেবল সাফল্যের পেছনে ছুটছি কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের যে দায়বদ্ধতা, তা ভুলে যাচ্ছি। পশুরা চলে তাদের প্রবৃত্তির তাড়নায়, তাদের কোনো অনুশোচনা বা সামাজিক বোধ নেই। কিন্তু মানুষ যদি ঠিক একইভাবে কেবল নিজের সুবিধার জন্য অন্যকে কষ্ট দেয়, তবে তার সাথে বনের পশুর কোনো বিভেদ থাকে না। মানুষের মনই তাকে ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য শেখায়। যার মন নেই, তার জীবন আসলে অর্থহীন। শিক্ষা আমাদের সেই মনকে আলোকিত করে আমাদের মানবিক গুণাবলীকে জাগিয়ে তোলে। নিচে মানুষ ও প্রাণীর আচরণের একটি পার্থক্য দেখানো হলো যা বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করবে।
প্রকৃত মানুষের মানবিক বৈশিষ্ট্যসমূহ
| বৈশিষ্ট্য | লক্ষ্য ও সামাজিক উদ্দেশ্য |
| বিবেকবোধ | প্রতিটি কাজে সত্য ও মিথ্যার বিচার করে চলা। |
| সহমর্মিতা | অন্যের কষ্টে নিজেকে ব্যথিত ও দুঃখী বোধ করা। |
| ত্যাগ ও সেবা | নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পরের উপকার করা। |
| সুশিক্ষা | জ্ঞানকে কেবল জীবিকার জন্য নয়, সমাজ গড়ায় ব্যবহার করা। |
মন্তব্য
পরিশেষে বলা যায় যে, কেবল মানুষের অবয়ব ধারণ করলেই মানুষ হওয়া যায় না। যার মধ্যে মনুষ্যত্ব নেই, সে আসলে প্রাণের আড়ালে এক মৃত সত্তা। তাই আমাদের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত একজন পরিপূর্ণ মানবিক গুণসম্পন্ন মানুষ হওয়া।
প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি
মূলভাব
জৈবিক প্রাণের অধিকার প্রতিটি প্রাণীর থাকলেও মন ও মনুষ্যত্বের অধিকার কেবল মানুষেরই থাকে। মনহীন মানুষ মূলত পশুবৃত্তিরই এক উন্নত রূপ। মনুষ্যত্ব অর্জনের মাধ্যমেই মানুষ পশুর পর্যায় থেকে দেবত্বের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে।
সম্প্রসারিত ভাব
উচ্চমাধ্যমিক বা এইচএসসি স্তরে প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ এর ব্যাখ্যাটি হওয়া উচিত অনেক বেশি দার্শনিক ও বিশ্লেষণধর্মী। মানুষের অস্তিত্ব দুটি স্তরে বিভক্ত একটি তার দেহগত অস্তিত্ব, অন্যটি তার আত্মিক অস্তিত্ব। দেহগত অস্তিত্বটি আমাদের অন্য সকল প্রাণীর সাথে একীভূত করে দেয়, যাকে আমরা প্রাণ বলি। এই প্রাণ আমাদের শারীরিক বৃদ্ধি ও জৈবিক কাজগুলো সম্পন্ন করে। কিন্তু আমাদের আত্মিক সত্তা বা মনই আমাদের মানুষ হিসেবে শ্রেষ্ঠত্ব ও মহত্ত্ব দেয়। প্রখ্যাত মনীষীরা বারবার বলেছেন যে, মানুষের পশুত থাকে তার শরীরে আর দেবত্ব থাকে তার অন্তরে। যদি কেউ তার অন্তরের সেই দেবত্ব বা মানবিকতাকে জাগিয়ে তুলতে না পারে, তবে সে কেবল একটি উন্নত মানের দ্বিপদ প্রাণীতে পরিণত হয়। বর্তমান আধুনিক পৃথিবীতে শিক্ষার হার বাড়ছে, কিন্তু মানবিকতার হার কি সমানভাবে বাড়ছে? যখন একজন উচ্চশিক্ষিত মানুষ দুর্নীতির আশ্রয় নেয় বা নিজের লাভের জন্য সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করে, তখন বুঝতে হবে তার প্রাণ থাকলেও মনটি মরে গেছে। প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ উচ্চমাধ্যমিক এর মূল দর্শন হলো, মেধা ও প্রতিভার চেয়েও বড় হলো মানুষের চরিত্র ও বিবেক। প্রাণ ধারণ করা আমাদের প্রকৃতির ধর্ম, কিন্তু মন ধারণ করা আমাদের আত্মার ধর্ম। যার মন স্বচ্ছ ও পবিত্র, তিনিই প্রকৃত মানুষ এবং তিনিই পৃথিবীর প্রকৃত সম্পদ।
মন্তব্য
উপসংহারে বলা যায় যে, প্রাণের স্পন্দন আমাদের কেবল জীবিত থাকার প্রমাণ দেয়, কিন্তু মনের স্পন্দন আমাদের শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দেয়। তাই মনুষ্যত্ব অর্জনের নিরন্তর সাধনাই হোক প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের প্রধান ব্রত।
আরও পড়ূনঃ পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ : সকল শ্রেণীর জন্যে
উপসংহার
পুরো আর্টিকেলে আমরা প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমরা দেখেছি যে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে শুরু করে এইচএসসি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরেই এই প্রবাদটির মূল সুর একই আর তা হলো মনুষ্যত্ব অর্জন। কেবল জৈবিক চাহিদা মেটানো বা পরীক্ষায় জিপিএ ফাইভ পাওয়াই জীবনের সার্থকতা নয়। আমরা যদি আমাদের চারপাশের মানুষের প্রতি সংবেদনশীল হতে না পারি, তবে আমাদের অস্তিত্ব কেবল একটি সাধারণ প্রাণীর মতোই থেকে যাবে। এই ভাবসম্প্রসারণটি পড়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেন কেবল পরীক্ষার খাতায় লেখার মতো উত্তর না শেখে, বরং নিজেদের জীবনেও সেই আদর্শগুলো প্রতিফলিত করে এটাই আমাদের বড় প্রত্যাশা।
পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার কিছু কার্যকর কৌশল
১. মূলভাব লেখার সময় খুব বেশি বড় করবেন না। এটি ২ থেকে ৩ লাইনের মধ্যে রাখার চেষ্টা করবেন যাতে প্রবাদটির মূল রহস্যটি সরাসরি ফুটে ওঠে।
২. সম্প্রসারিত ভাব অংশে প্যারাগ্রাফ ভাগ করে লিখুন। এতে উপস্থাপনা সুন্দর হয় এবং পরীক্ষকের নজরে আসে। প্রতিটি প্যারায় নতুন নতুন যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করুন।
৩. মন্তব্য অংশে পুরো আলোচনার সারমর্মটি এমনভাবে লিখুন যাতে তা একটি জোরালো বার্তার মতো শোনায়। এটি আপনার লেখার চূড়ান্ত গভীরতা প্রকাশ করে।
৪. হাতের লেখা পরিষ্কার রাখুন এবং অযথা কাটাকাটি পরিহার করুন। বাংলা বানানের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, কারণ একটি ভুল বানান লেখার মান অনেক কমিয়ে দেয়।
৫. উচ্চমাধ্যমিকের ক্ষেত্রে কোনো বিখ্যাত মনীষীর প্রাসঙ্গিক উদ্ধৃতি (বোল্ড না করে) ব্যবহার করতে পারেন। এতে লেখার মান বাড়ে। এই কৌশলগুলো অনুসরণ করলে আপনারা অবশ্যই পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাবেন।
বন্ধুরা, আশা করি প্রাণ থাকলে প্রাণী হয় ভাবসম্প্রসারণ সংক্রান্ত এই পূর্ণাঙ্গ গাইডটি তোমাদের অনেক উপকারে আসবে। তোমাদের কোনো বিশেষ প্রশ্ন বা পরবর্তী কোনো বিষয়ের ওপর আর্টিকেল প্রয়োজন হলে আমাদের জানাতে পারো। আমরা সবসময় তোমাদের পাশে আছি। ধন্যবাদ।






